ফ্রিল্যান্সিং কাজের অভাব নেই। একটা মার্কেটপ্লেসে গেলেই বোঝা যায় যে ফ্রিল্যান্সিং কাজ কি কি? এবং ফ্রিল্যান্সিং কোন কাজের চাহিদা বেশি...??
তাই আমি অনুমান নির্ভর তথ্য না দিয়ে সরাসরি একটি মার্কেটপ্লেসের রিসার্চ দেখাবো। যাতে করে আপনারা সঠিক তথ্য জানতে পারেন।
জনপ্রিয় একটি মার্কেটপ্লেস ফ্রিল্যান্সার ডম কম এর একটি প্রতিবেদনে ফ্রিল্যান্সিং কোন কাজের চাহিদা বেশি..?? তা প্রকাশ করেছে.....
তাদের প্রকাশিত প্রতিবেদনে সবচেয়ে বেশি উপার্জিত ১৫টি ক্যাটাগরি উল্লেখ পেয়েছে.....।
যেমন হলো: ১/কপিরাইটার, ২/ওয়েব ডিজাইনার, ৩/ডিজিটার মার্কেটিং পরামর্শক, ৪/স্যোশাল মিডিয়া ম্যানেজার, ৫/এডিটর, ৬/ওয়েব ডেভেলপার, ৭/মিডিয়া বায়ার, ৮/ফটোগ্রাফার, ৯/ডাটা এনালাইজার বা বিশ্লেষক, ১০/বিজনেস পরামর্শক, ১১/প্রোগ্রামার, ১২/ভিডিও গ্রাফার, ১৩/একাউন্টার, ১৪/ভার্চুয়াল এসিস্টেন্ট, ১৫/পাবলিক রিলেশন ম্যানেজার ইত্যাদি....
#১.কপিরাইটার
সবচেয়ে লাভবান ফ্রিল্যান্সিং কাজের মধ্যে একটি হলো কপিরাইটিং। কপিরািইটার হিসেবে আপনি যা করতে পারেন তা হলো___ ই-মেইল, ই-বুক, ব্লগ ইত্যাদি করতে পারেন।
ইউএস ব্যুরো অফ লেবার স্ট্যাটিস্টিকস (বিএলএস) অনুসারে, কপিরাইটারে কাজের পরিমান ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৯% বৃদ্ধি পাবে।
যার বেশিরভাগ কপিরাইটার হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের (১৫,৪০০) কপিরাইটারের কর্মক্ষেত্র রয়েছে। একজন কপিরাইটার প্রতি ঘন্টায় গড়ে $১৯ থেকে $৪৫ ডলার আয় করে থাকে।
একবার ভেবে দেখুন, কোনো লোক যদি প্রতি ঘন্টায় নিচে ১৯ ডলার আয় করে তবে, বাংলাদেশি টাকায় সে প্রতি ঘন্টায় ১৬৫০ টাকা আয় করে। (সর্বনিম্ন মানে)
#২.ওয়েব ডিজাইনার..
এখানে ওয়েব ডিজাইনের সাথে অনেকেই পরিচিত। ওয়েব ডিজািইন বলতে একটা স্টাটিক ওয়েবসাইট তৈরি করকে বুঝায়।
ফ্রি ওয়েবসাইট তৈরি করুন মাত্র ৫ মিনিটেই
আমি এই পোস্টে শুধু ধারণা দিয়েছি। কারন হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ সমূহে আমি আরও বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
ফ্রিল্যান্সিং এর সকল কাজ সমূহ
ওয়েব ডিজাইন করে প্রতি ঘন্টায় $১৫ থেকে $৩০ ডলার আয় করা সম্ভব। এমনকি ২০৩০ সালের মধ্যে এর কাজের চাহিহদা ১৩% বৃদ্ধি পাবে।
#৩.ডিজিটাল মার্কেটার...
একজন ডিজিটাল মার্কেটারের কাজ হচ্ছে কোনো প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় বাড়ানো। তার জন্য কিছু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়াকে ডিজিটাল মার্কেটিং বলে।
একজন ফ্রিল্যান্সার যদি জানতে চায় ফ্রিল্যান্সিং কোন কাজের চাহিদা বেশি.?তবে আমি বলতে পারি কম কষ্টে মোটামুটি লেভেলের ইনকামের জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং সেরা হবে।
আপওয়ার্কের তথ্যমতে একজন ডিজিটাল মার্কেটার প্রতি ঘন্টায় ১৫ থেকে ৪৫ ডলার পর্যন্ত আয় করে।
#৪.স্যোশাল মিডিয়া ম্যানেজার...
প্রতিদিন আমরা স্যোশাল মিডিয়াতে প্রায় অনেক ব্যয় করি। স্যোশাল মিডিয়াগুলোতে সময় বেশি ব্যয় করারও কারণ আছে।
সাধারণত স্যোশাল মিডিয়াগুলো একাউন্ট খোলা ফ্রি, আরও অনেক কারণ আছে।
যাইহোক! এই স্যোশাল মিডিয়াতে এক্সসপার্ট হতে পারলে আপনি প্রতি ঘন্টায় ১৪ ডলার থেকে শুরু করে ৩৫ ডলার ইনকাম করতে পারবেন।
স্যোশাল মিডিয়ার কাজগুলো সাধারণত অডিয়েন্স এনালাইজ হয়ে থাকে। অডিয়েন্সরা কি পছন্দ করে না করে। আরও আছে বিজ্ঞাপন টার্গেট ইত্যাদি।
#৫.ওয়েব ডেভেলপার..
প্রোগ্রামিং এর মধ্যে বেশি ইনকাম করার একটি সোর্স হলো ওয়েব ডেভেলপার। আপনাদেরকে সহজভাবেই বলি আমি আপনি যেই ফেসবুক ব্যবহার করি সেই ফেসবুক ওয়েব ডেভেলপারার তৈরি করেছেন।
ওয়েব ডেভেলপিং করে আপনি প্রতি ঘন্টায় ১৫ ডলার থেকে শুরু করে ৩০ ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারবেন।
আমি আজকে ফ্রিল্যান্সিং কোন কাজের চাহিদা বেশি এই টপিকের উপর মাত্র ৫ টি কাজের ধারনা দিয়েছি.....
আরও অনেক ক্যাটাগরি রয়েছে যেগুলোতে আপনি অনেক টাকা আয় করতে পারবেন........
ফ্রিল্যান্সিং কোন কাজের চাহিদা বেশি - রিসার্চ রিপোর্ট
ফ্রিল্যান্সিং কোন কাজের চাহিদা বেশি - আপওয়ার্কে যে কাজের চাহিদা বেশি
ফ্রিল্যান্সিং কোন কাজের চাহিদা বেশি তা জানার জন্য আপওয়ার্কের একটি রিসার্চ দেখা যাক.......
আপওয়ার্কের তথ্যমতে ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের সেরা ফ্রিল্যান্সিং কাজ এবং দক্ষতা রয়েছে ৩০টিরও বেশি।
1. Machine learning
একজন মেশিন লার্নার প্রতি ঘন্টায় ৮০ ডলার থেকে শুরু করে ১২৫ ডলার পর্যন্ত আয় করে থাকে।
Machine learning দক্ষতা অর্জন করতে হলে আপনাকে সাধারণত ডেটা সায়েন্সের গভীর জ্ঞান, পাইথন/C++, R, এবং Java এর মতো প্রোগ্রামিং ভাষা জানতে হবে। www.facebook.com/pankajsaha22
এই লিংকে ক্লিক করে মেশিন লার্নিং সম্পর্কে আর বিস্তারিত জেনে নিন। নোটঃ তথ্যগুলো ইংরেজিতে রয়েছে।
2. Automation
একজন অটোমেশনারের প্রতি ঘন্টায় ৪০ ডলার থেকে শুরু করে ১১০ ডলার পর্যন্ত উনকাম হয়ে থাকে।
অটোমেশন এর দক্ষতা অর্জন করতে হলে পাইথন এর মতো প্রোগ্রামিং এ দক্ষ হতে হবে। আরও অনেক দক্ষতার প্রয়োজন হয়।
অটোমেশন সম্পর্কে আরও জানতে উইকিপিডিয়ার একটি আর্টিকেল পড়ে নিন। এখানে ক্লিক করুন।
3. Data analytics skills
এই দক্ষতা এখনকার মার্কেটে খুবই জনপ্রিয়। একটা কোম্পানির অনলাইন ভিত্তিক সকল তথ্য এনালাইজ করতে হয়।
এ কাজের জন্য একজন প্রফেশনাল Data analytics প্রতি ঘন্টায় ৪০ ডলার থেকে ১০০ ডলার আয় করে থাকে।
4. Mobile application skills
ডিজিটাল এই সময়ে হরেক রকম মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন দেখা যায়। প্রতিটা কোম্পানির নিজস্ব মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে।
এই Mobile application skills অর্জজন করতে পারলে আপনিও প্রতি ঘন্টায় ৪০ থেকে ১০০ ডলার আয় করতে পারবেন। (মোট উপার্জনের ঘন্টা হিসাব)
5. VR (virtual reality) skills
ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ডেভেলপার, যারা কোনো একটা গেম তৈরি করে তাকে বাস্তবতার অনুরুপ ইউজার এক্সপেরিয়েন্স দিয়ে থাকে।
VR (virtual reality) skills এর মাধ্যমে প্রতি ঘন্টায় ৪০ থেকে ১০০ ডলার আয় করা যায়। (www.facebook.com/pankajsaha22) আপওয়ার্কেও রিপোর্ট।
6. Video production
ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো Video production. ভিডিও কনটেন্ট ক্রিয়েটররা আপওয়ার্ক থেকে প্রতি ঘন্টায় ৪০ থেকে ৮৫ ডলার আয় করে থাকে।
বছরের সেরা ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ সমূহ
বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং এ সবচেয়ে বেশি হায়ার হয়ে থাকে ডিজিটাল মার্কেটারদের। তাদের অনলাইনে কিংবা অফলাইনে প্রচুর কদর রয়েছে।
7. SEO (search engine optimization)
এসইও, নামটা প্রায় সবাই শুনে থাকে। বিশেষ করে একজন ব্লগার কিংবা ওয়েবসাইট ওনার’রা। বর্তমান সময়ের ট্রেন্ডিং একটি মার্কেটিং হলো এসইও মার্কেটিং।
আপওয়ার্ক থেকে একজন এসইও এক্সপার্ট প্রায় ২০ ডলার থেকে ৭৫ ডলার পর্যন্ত আয় করে থাকে।
8. Social media marketing
মানুষ এখন তাদের সময়গুলো স্যোশালে ব্যয় করছে। এবং সেই সাথে অনেকগুলো স্যোশাল মিডিয়া মার্কেটার গড়ে উঠেছে।
স্যোশাল মিডিয়া মার্কেটিং খুবই সহজ। শুধু সময়সাপেক্ষ। কাজটি সহজ হওয়াতে প্রায় মানুষই এখন স্যোশাল মিডিয়া মার্কেটিং এার সাথে যুক্ত হচ্ছে।
ফ্রিল্যান্সিং করে একজন স্যোশাল মিডিয়া মার্কেটার প্রতি ঘন্টায় ৪০ ডলার থেকে ১০০ ডলার আয় করে থাকে।
9. Motion graphics
কিছু ভিডিও গ্রাফিক্স দিয়ে এনিমেশনের মাধ্যমে যে গ্রাফিক্স তৈরি হয় তাকে মোশন গ্রাফিক্স বলে। মোশন গ্রাফিক্স সম্পর্কে আরও জানুন।
আপনি যদি Motion graphics আয়ত্ব করতে পারেন তাহলে আপওয়ার্ক থেকে আপনি প্রতি ঘন্টায় ৩৫ থেকে ৮০ ডলার (মোট টাকার ঘন্টা হিসাব) আয় করতে পারবেন।
10. Packaging design
কোনো কোম্পানির নতুন কোনো প্রোডাক্ট আসলে তা বিপনণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। Packaging design (www.facebook.com/pankajsaha22) কিন্তু বিপনণের একটি অংশ।
যেহেতু Packaging design খুবই গুরুত্বপূর্ন তাই এর কদরও রয়েছে বটে। একজন প্যাকেজ ডিজাইনার যত বেশি ক্রিয়েটিভিটি দেখাতে পারবে তার ইনকামও বেশি হবে।
আপওয়ার্কের তথ্যমতে (বর্তমানে অনেকগুলো ফ্রিল্যান্স ওয়েবসাইট রয়েছে। জনপ্রিয় একটি ফ্রিল্যান্সিং সাইট হলো আপওয়ার্ক) একজন প্যাকেজ ডিজাইনার Packaging design করে প্রতি ঘন্টায় ৩৫ থেকে ৭৫ ডলার আয় করে।
বর্তমানে কোন কাজের চাহিদা বেশি
অনেকে নতুন ফ্রিল্যান্সিং শুরু করলে ফ্রিল্যান্সিং কোন কাজের চাহিদা বেশি তা জানার পাশাপাশি বর্তমানে কোন কাজের চাহিদা বেশি তাও জানতে চায়।
আসলে, আপনি যে কাজ করবেন সেই কাজ অনুযায়ী এবং প্রতিযোগীতা অনুযায়ী বর্তমানে কোন কাজের চাহিদা বেশি তা জানা যায়।
ফ্রিল্যান্সিং কোন কাজের চাহিদা বেশি ২০২২
এখানে আমি যে ক্যাটাগরির কথা বলেছি তার প্রায় সবগুলোই বর্তমানে জনপ্রিয়। এবং এই কাজগুলোর চাহিদাও অনেক বেশি।
ভালো লাগলে অবশ্যই #শেয়ার করবেন।।।।